গাছতলায়
মানিক বন্দ্যোপাধ্যয়
চুলো তিনটে ইঁটের, আস্ত ইঁট,
তাতে জ্বলছে আট বছরের ন্যাংটো কাঠকুড়ুনির শ্রম,
ধোঁয়ায় কালো মাটিলেপা মাটির হাঁড়ি,
তাতে পাঁচমেশেলী দুটি চাল----
নেওয়ার বড় থাবার খয়রাতি মুষ্ঠি ছোট ৷
গাছের ভাঙা ডাল দিয়ে
যজ্ঞের এই চার ঘাঁটছে একটা পেত্নী,
ফোঁড়ায় নিঝুম বাচ্চাটির মুখে
বুকের চুপসানো থলির বোঁটা গুঁজে !
পিপড়ের রাজ্য প্রাচীন আমগাছ,
গুড়িতে ঠেস দিয়ে বুভুক্ষ জন্মদাতা,
বুঝি চুল ছিঁড়ছে উকুনের কামড়ে ?
জ্যৈষ্ঠের দুপুরে গায়ে দিয়েছে গরম কোট,
বোতাম ছাড়া, তালিমারা, চলটা তোলা,
ফুটোয় ভরা, ধূলায় ধূসর,
মুহ্যতার মতো ঢোলা গরম কোট ৷
স্তনাগ্রচূড়ায় ক্ষত-চোষা শিশু কাঁদল ওঁয়াও,
স্ত্রীকন্ঠের ভেরী বাজল পুরুষকে চমক দিয়ে :
বসে কেন ? বসে কেন ? বসে কেন ?
সেই যে এগিয়ে এলো গাছতলা ছেড়ে
ঘটে গেল এক্সিডেন্ট ৷
চিলের নজর ছিল পায়ে,
সিল্কের পকেটাশ্রয়ী তামার বশীকরণে
হাঁটুতক যে পায়ে জীয়ানো ঘা ৷
সাঁক করে নেমে এল চিল,
ছোঁ মারল সেই ক্ষেতে,
চঞ্চু আর নখে৷
হু-হু করে কেঁদনা আমার সোনা
একটি বুলেট তোমায দেব---
লড়াই থেমে গেলে ৷
0 Comments