বাংলা ভাঙার কবিতা
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
খবরের কাগজ নাকি বাংলা ভাগ করতে চায় ?
নেতারা নাকি ভাতের হাঁড়ি ভাগ করতে ইচ্ছুক,
বড়লাটের আজ্ঞায় ?
হাঁড়ি ফাটলে যে ভাত পুড়ে ছাই হে উনানের আগুনে,
শ্রমার্ত ক্ষুধার্ত আমরা খাব কি ?
কি খাবে আমাদের হাড়গিলে বৌগুলি, ন্যাংটো নচ্ছার ছেলেমেয়ে ?
পঁয়ত্রিশ লক্ষ মরলাম,
মরলাম শুধু ওই নেতাদের লাটেদের খেয়ালে,
আরও কি দু’চার কোটি মরব,
দামী পেনের, এটলির হৃদয়ের মমতায় শোকভরা লেখনীর,
নেহেরুর নখের আঁচড়ে জিন্নার গরিব মুসলমানের প্রতি দরদে,
দাঙ্গা, কারফিউ, ব্যর্থ ও মিথ্যায় ?
নেতাদের নেতারা বাংলা ভাগ করতে চায় !
বাংলা বাঙালীর ৷
ঈশ্বর আল্লার হাজার বছরের সব জনমন মহামহোদয় বাক্য,
জীবন ফাউ নাকি ? মরণ তো জানাশোনা ৷
মৃত্যুই হল শেষে বিচারক !
বাঙালীরা মরছে মরল মরবে,
কিন্তু ভাইরে,
আর মরা যায় না !
যত পারি মরেছি, আর মরা যায় না ৷
মাইরি বলছি কালীর দিব্যি, খোদার দোহাই,
আর মরা যায় না কিছুতেই ৷
তাই ঈশ্বর আল্লা নেতা লাটদের বাদ দিয়ে
এবার বাঁচতে চাই,
মানুষ নিয়ে মানুষ হয়ে বাঁচতে চাই ৷
ঘর ভাগ হোক,
ভাগ হতে দেব না দেহটা, প্রাণটা !
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯শে মে ১৯০৮ সালে সালে বিহারে সাঁওতাল পরগনায় (বর্তমানে ঝাড়খণ্ডের) জন্মগ্রহণ করেন৷ তার নাম ছিল প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় ওর ডাকনাম ছিল মানিক৷ তার পিতার নাম ছিল হরিহর বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে গণিত বিষয়ে ভর্তি হন৷ সাহিত্য রচনায় তার পেশা হিসেবে বেছে নেন৷ তিনি তার জীবনে চল্লিশটি উপন্যাস ও ৩০০ টি গল্প রচনা করেন৷ তার উপন্যাস গুলি হল- দিবাকাব্য, পদ্মা নদীর মাঝি, চতুষ্কোণ ইত্যাদি৷ গল্প রচনা করেন সেগুলি- অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প, বৌ, টিকটিকি ইত্যাদি৷
0 Comments